Tuesday, April 10, 2012
পাগল মন
Posted by
Anirban
0
comments
Tuesday, March 9, 2010
আমার সেরা মুহুর্ত
কেও যদি বলে আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরনীয় দিন কোনটা, তাহলে আমার মাথায় এক গাদা চিন্তা এসে জটলা পাকিয়ে একাকার হয়ে যাবে। আমি কিছুই বলতে পারবনা। কিন্তু ভাবতে বসলে আমার মাথায় একটা দিন আসে, সেটা খুবই সুখের দিন। একটা আক্ষরিক অর্থেই অপার্থিব সুখের দিন। যেদিন আমি প্রথম ছায়াপথ দেখেছিলাম। দিন তারিখ মনে নেই, তবে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর কি অক্টোবর মাস হবে। আকাশ খুবি পরিষ্কার ছিল, হাল্কা একটা দুটো অর্ধস্বচ্ছ মেঘ ছিল। আমি তেনুঘাট থেকে সূর্য ডোবার বেশ কিছু পরে রওনা দিয়েছিলাম। আকাশে অনেক তারা ফুটেছিল। আকাশ খুব পরিষ্কার ছিল, তাই গোধুলি বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি। প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা। তখন আমি কর্মসুত্রে বোকারোতে থাকি। খাতা কলমে নাম বোকারো স্টীল সিটি। আমার বাহন Kawasaki Bajaj Boxer AR বাইক। প্রতিদিন আমাকে বোকারো জেলার নানা যায়গায় যেতে হত কম্পিউটার সংক্রান্ত সার্ভিস কল অ্যাটেন্ড করার জন্য। আমি এসবিআই তেনুঘাট থেকে কাজ শেষ করে ফিরছিলাম। ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে তেনুঘাট ড্যামের পাশ দিয়ে রাস্তা কিছুটা এঁকে বেঁকে কিছুটা সোজা গিয়ে চলে গেছে পেটারবার। পেটারবারে রাস্তাটা মিশেছে NH23 তে। এই রাস্তা ধরে সোজা পুর্ব দিকে গেলে বোকারো পৌছে যাওয়া যায়। মোটের উপর সহজ রাস্তা কিন্তু বেশ কিছুটা পথ। ওদিকটায় রাস্তা বেশ ফাঁকাই থাকে। জনবসতি বেশ কম। রাতে তো আরও কম। ১০ মিনিট বাইক চালালেও রাস্তায় একটাও গাড়ী বা মানুষ জন চোখে পরেনা। আমি ফাকা রাস্তায় কখনও মাইলেজের কথা ভাবিনা। খুব দরকার না পরলে ৬৫র নিচে স্পীড নামাইনা। তো সেদিনও বেশ জোরেই নক্ষত্র খচিত আকাশের নিচ দিয়ে তীব্র হেড লাইট জালিয়ে আসছি। সেদিন আকাশে চাঁদ ছিলনা। আলো বলতে শুধু তারার আলো আর আমার বাইকের হেড লাইট। আর মাঝে মাঝে দুধারের গ্রামের বাড়ির আলো। লম্ফ কিংবা ইলেকট্রিক বাল্ব। আমি বাইকের আলোয় যা দেখা যায় তাই দেখতে দেখতে আসছিলাম। দুধারে জঙ্গল, কুড়ে ঘর, ফাকা মাঠ, উচু নিচু জমি, পাথরে ঢিপি, একটা দুটো পাকা বাড়ী। মাঝে মাঝে আকাশেও দেখছি। দেখছি আজ যেন অনেক বেশী তারা দেখা যাচ্ছে। এভাবে দেখতে দেখতে NH23 এসে পৌছালাম। এবার বাদিকে মানে পুর্ব দিকে যাওয়া প্রায় ২৫ কিমি। এদিকে গাছ পালা একটু কম। রাস্তাও অনেকটা চওড়া। ফলে অনেকটা আকাশ দেখা যাচ্ছিল। এত তারা আমি আমাদের হালিসহরে বাড়িতে বসে ছোটো বেলায় দেখেছি। অনেকদিন হল আকাশে এত তারা দেখিনা। বিজ্ঞাপনের আলো আর বায়ু দুষন মিলে আমাদের আকাশটা অনেকটা আবছা করে দিয়েছে। সেদিন আমার মন রাস্তায় কম আর আকাশে বেশি ছিল। আমার মনে হল আকাশে যেন হালকা একটা মেঘ ভাসছে। পুরো আকাশ জুরে এদিক থেকে ওদিকে চলে গেছে। মেঘটা আমি অনেকক্ষন ধরে লক্ষ্য করলাম, তার পর হঠাতই আমার মাথায় এল এটা মেঘ হতে পারেনা, কারণ এর মধ্যে মধ্যে বেশ কিছু ঝিক মিক করা তারা দেখা যাচ্ছে। যেই মনে হল এটা মেঘ নয় ছায়াপথ আমি সম্পুর্ন অন্ধকার রাস্তায় বাইক থামালাম, হেলমেট খুললাম, আর ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে আকাশে তাকিয়ে থাকলাম। সম্পুর্ন অন্ধকার, হেডলাইট বন্ধ। তারার আলোতে দেখতে পেলাম একটা ফাকা মাঠের মাঝে একটা সরু খালের উপর একটা সিমেন্টের পুলের উপর দাড়িয়ে আছি। ওই মুহুর্তটা আমার জীবনের সেরা মুহুর্ত। আমি এর পরেও আর কয়েকবার ওই রাস্তা দিয়ে গেছি, কিন্তু সেদিনের মত এত তারা আর ছায়াপথ আর কোনও দিনও দেখিনি। এখনও যখন আমার মন খারাপ হয় তখন আমি ওই দিনটার কথা ভাবি।
Posted by
Anirban
0
comments
Sunday, October 28, 2007
বেলুন আর লজেন্স
ছোট বেলায় আমি এখনকার থেকে আরো অনেক বেশি বোকা ছিলাম। সেরকমই একটা বোকামির কথা আজকে আমার মনে পরছে। আমার বাবা স্বর্নকার ছিলেন, চোখের পাওয়ারের প্রব্লেমের জন্য এখন আর কাজ করতে পারেননা। যাইহোক, বাবা ছিলেন শিল্পী, ব্যবসায়ী নয়, তাই আমরা খুব একটা স্বাচ্ছন্দের মধ্যে ছিলামনা। দরকারী সব জিনিসি পেতাম, কিন্তু সখের কোনো জিনিস কিনতে হলে খুব মুশকিলে পরে যেতাম। পূজোতে আমার একটাই জামা প্যান্ট হত। অথচ আমার পাড়ার খুব গরীব বন্ধুরও দেখতাম, দুটো, কি তিনটে জামা হয়েছে। ওদের, কাকা কিংবা মামা হয়ত দিত। আমার কাকাও নেই, মামারাও অনেক দূরে দূরে থাকে, আমার মাসতুতো ভাইবোনের সংখ্যাও বেশ বেশী। সুতরাং সেদিক থেকেও কিছু পাওয়ার আশা ছিলনা। সবাই দেখতাম, ষষ্ঠী থেকেই নতুন জামা পরতে শুরু করেছে, আমি সপ্তমীর আগে নতুন জামা পরতে পারতামনা, সকালে বিকেলে একই জামা। আর দুদিন, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গত বছরের একটু খাটো পূজোর জামা, আর নাহলে দাদাদের, ছোট হয়ে যাওয়া, জামা পরতাম। পুরনো জামা পরে ঠাকুর দেখতে যেতে খুব লজ্জা করত। যাইহোক, যে কথাটা লিখতে বসেছিলাম, সেটা এখনও লিখিনি। আমাদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে, উপহার দেওয়া নেওয়ার প্রচলন ছিলনা। কেও যদি ঘুরতেও আসত তাহলে, বাড়ীর ছোটদের জন্য হাতে করে কিছু নিয়ে আসত না। একবার আমার মাসীর দেওর একাই আমাদের বাড়ীতে ঘন্টা খানেকের জন্য বেড়াতে এসেছিলেন, যথারীতি খালি হাতে। উনি আমাকে খুব ভালবাসতেন, বলে জানতাম। ওনার একটা মুদীর দোকান ছিল। আমি আশা করেছিলাম যে উনি আমার জন্য কিছু নিয়ে আসবেন। উনি যখন চলে যাচ্ছিলেন আমি চুপি চুপি তার কানে কানে বললাম যে “পরের বার যখন আসবেন, তখন আমার জন্য বেলুন আর লজেন্স নিয়ে আসবেন”। উনি চলে গেলেন, কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই ফিরে এলেন, পকেটে এক প্যাকেট লজেন্স আর বেলুন নিয়ে। আমিতো তখন লজ্জায় পরে গেছি। কিন্তু আমি সেগুলো নিয়েছিলাম। তারপর আমার বাবা, মা, দুইদাদা, সবাই খুব শাসন করল, আমি কিছুতেও তাদের বুঝিয়ে উঠতে পারলামনা যে আমি শুধু তার কর্তব্যই মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। কোন বাড়ীতে ছোটো ছেলে থাকলে, সেই বাড়ীতে বেড়াতে গেলে কিছু ছোটখাট উপহার নিয়ে যাওয়া উচিত। তারপর আমার দাদারা সেই বেলুন ফোলাল, ফাটাল, লজেন্স খেল, কিন্তু কেও আমাকে একবারও বাহবা দিলনা। তারপর বহুদিন সেই মাসতুতো কাকা আমাদের বাড়ীতে আসেননি।
Posted by
Anirban
1 comments
Monday, August 27, 2007
অভ্যন্তরীন পূর্ণ প্রতিফলন
Posted by
Anirban
0
comments
Tuesday, August 21, 2007
মনে হল, তাই লিখি
একুশে আগষ্ট, দু হাজার সাত। আজ থেকে আমার নতুন ব্লগ শুরু করলাম।
ছোট বেলায় ডায়রী লিখতাম। লেখা কমতে কমতে একটা ডায়রী আধখানা ফাকা পরে রইল। ধরা যেতে পারে এটা আমার ডায়রী, তবে দিনলিপি নয়। যখন পড়াশোনা শেষ হতে না হতে চাকরি নিয়ে রাচীঁ চলে গেলাম তখন চিঠি লিখতাম, পাতার পর পাতা। একটা চিঠি আমি কখনও এক বারে লিখতামনা। যখন যা মনে হত তাই লিখতাম। তার পর চাকরী পালটে কলকাতায়। চিঠি লেখার গল্প শেষ হল। তবু আমার মনে হত কিছু লিখি। বানিয়ে বানিয়ে গল্প লিখতে পারিনা। কবিতার লেখার মত ততটা কবি কবি ভাব আমার সহজে আসেনা। তত দিন অপেক্ষা করতেও ভাল লাগেনা। তাই গদ্যতেই শুরু করে দিলাম। এই লেখা গুলো আমার কবিতা না হয়ে ওঠা ভাবনা। আমার চার পাশে রোজকার ছোট ছোট যে সব বাস্তব নাটক, কবিতা, গল্প মনে দাগ কাটে কিংবা শুধু একটু আচড় কেটে যায় সেগুলিই হবে আমার লেখার বিষয়।
Posted by
Anirban
0
comments